হানিমুন শেষ তাওহীদ হৃদয়ের, বুঝছেন বাস্তবতা

পোস্ট এর সময় : ১:৩১ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ১৯

তাওহীদ হৃদয় জাতীয় দলে স্থিতিশীল পারফরম্যান্সে স্ট্রাগল করছেন; হংকং ম্যাচে ৩৬ বলে ৩৫ রান করলেও নিজের ছন্দ নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি স্বীকার করেছেন, হানিমুন পিরিয়ড শেষ, অনুশীলন চালিয়ে উন্নতির চেষ্টা করছেন।

ক্রিড়া প্রতিবেদক: তাওহীদ হৃদয় রান পেয়েছেন, তবে সেই রান কতখানি তৃপ্তির তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৬ বলে ৩৫! মেনে নিতে একটু কষ্টই হচ্ছে। তাই ৭ উইকেটের বড় জয়ের পরও অস্বস্তি ভাবটা কাটেনি।

তবে হৃদয়ের জন্য এই রানটাও ‘আপাতত’ স্বস্তির, বছরজুড়েই ছন্দে নেই তিনি। গত বছর যেখানে ৩০.৮১ গড় ও ১৩০.০৭ স্ট্রাইক রেটে করেন ৪৯৩ রান, সেখানে এবার ১৫ ম্যাচে ২৩.৬৩ গড় ও ১০৮.৭৮ স্ট্রাইক রেটে তার রান ২৬০।

রান পেলেও তার এমন ছন্দ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় সমর্থকেরা, জাতীয় দলে থিতু হয়ে যাওয়ার পর হৃদয়ের এমন ঢিমেতালে পারফরম্যান্স যেন মেনে নিতে পারছেন না তারা। বিষয়টা অনুধাবন করেছেন হৃদয় নিজেও।

হংকংয়ের সাথে ম্যাচের পর নিজের বাজে সময়ের কথা স্বীকার করলেন হৃদয় নিজেই। সেই সাথে বললেন, তিনি বুঝতে পারছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার হানিমুন পিরিয়ড শেষ।

হৃদয় বলেন, ‘আমার তো হানিমুন পিরিয়ড শেষ। আমি চেষ্টা করছি। এ জন্য আমি অনুশীলনে যাচ্ছি, চেষ্টা করছি। হয়ত হচ্ছে না। বিশ্বের কোনো খেলোয়াড়ই একই গ্রাফে যেতে পারে না। আমি হয়ত কয়েকটা ম্যাচে ধুঁকেছি, ইনিংস বড় করতে পারছি না।’

টি-টোয়েন্টিতে শেষ ১৩ ইনিংসে হৃদয়ের ব্যাটে ফিফটি নেই। গত বছর অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস। এরপর যেসব ইনিংস খেলেছেন, তাতে বলের সাথে রানের ব্যবধান ছিল সামান্যই।

বৃহস্পতিবার হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও তার ৩৬ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি ছিল মাত্র একটি, করেছেন ৩৫ রান। নিজের উন্নতির জায়গাগুলো আরো চিনে নিচ্ছেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘আমার উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমার হাতে যেটা আছে, চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

‘স্ট্রাগল করছি। বিশ্বের যত খেলোয়াড় আছে, সবাই কমবেশি করে। হয়ত ইনিংসগুলো বড় করতে পারছি না। চেষ্টা করছি, এখান থেকে যদি আরেকটা ধাপ ওপরে নিতে পারি। দুই-তিনটা বাউন্ডারি হলে হয়তো দৃশ্যপটও বদলে যাবে।’

হংকংয়ের সাথে ধীরগতিতে ব্যাট করা নিয়ে হৃদয়ের স্বীকারোক্তি এমন, ‘উইকেট ট্রিকি ছিল। এরকম দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলি না। তাই একটু মানিয়ে নিতে হয়েছে। নেট রান রেটের হিসাব মাথায় ছিল। ট্রাই করেছি, ব্যাটে বলে হচ্ছিল না।’

ব্যাট হাতে নিজের সময়টা যে ভালো যাচ্ছে না, স্বয়ং হৃদয়ই এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ব্যাট করার সময় এই ভাবনাই কি তার জন্য চাপ হয়ে যাচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নে হৃদয় বলেন, ‘এই জিনিসটা মাথায় থাকলে আমি ভালো খেলতে পারব না। শরীর ওভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। আমার সব সময় লক্ষ্য থাকে একটা নতুন দিন, ওভাবেই শুরু করি। আশা করছি সামনে ভালো কিছু করতে পারব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *