নিজস্ব প্রতিবেদক:-সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের ঘোষণা হলে তা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। এদিকে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, একটি দলের অভিমতে জুলাই সনদ হলে জাতি প্রত্যাখ্যান করবে।
মঙ্গলবার জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ জামায়াতের পৃথক গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে তাঁরা এসব কথা বলেন। রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে মহানগর উত্তরের সমাবেশে ডা. তাহের বলেন, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী-বাকশালীরা দেশে অপশাসন-দুঃশাসন চালিয়েছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদেরকে লজ্জাজনক ভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তারা আবার দৃশ্যপটে ফিরতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
জামায়াত ভোটের অনুপাতে সংসদের আসন বণ্টন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। বিএনপি বিদ্যমান পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন চায়। দলটি প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষেও পিআর চায় না। আবার এনসিপি পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ চায়। ডা. তাহের বলেন, গতানুগতিক পদ্ধতির নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে প্রায় সকল নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনসহ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনই নির্বাচন ছিল না। নির্বাচনের নামে প্রহসন ছিল।
পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি করে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, পিআর হলে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। নির্বাচনী অপরাধ, ভোট চুরি, কেন্দ্র দখল, টাকার খেলা থাকবে না।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ডা. তাহের বলেন, যাদের প্রয়োজনীয় জনসমর্থন নেই তারাই এ পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন। তারা মাস্তানি ও অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান। জনগণ পিআর ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতি মেনে নেবে না।
সংস্কার করতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাহের বলেন, জনগণের রক্তে জুলাই বিপ্লব হয়েছে। আপনি বা আপনার পরিবার আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তাই নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন ঘোষণা করলে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। বিশ্বাসঘাতকতা করলে জাতি আপনাকে ছাড়বে না।
জুলাই অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উদযাপনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা গণমিছিল করে। মিছিল শুরুর আগে মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন দলটির নায়েবে আমির তাহের।
মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশ শেষে গণমিছিল মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলেও, আগে সংস্কার
পল্টন মোড়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমাবেশ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুন কিংবা ফেব্রুয়ারি যখনই নির্বাচন হোক, আগে সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সকল সংস্কার কমিশনকে জামায়াত সহযোগিতা করলেও একটি দল নিজেদেরকে রাষ্ট্রের মালিক মনে করে। তারা সরকারকে যথাযথ সহযোগিতা করেনি, করছে না। তারা সংস্কার চায় নিজেরদের মতো করে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় আবির্ভূত হতে চায়। কিন্তু ফ্যাসিবাদ আর ফিরবে না। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা হবে।
সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে গণভোট ভোট দিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন, সেভাবেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশ শেষে গণমিছিল পল্টন মোড় থেকে প্রেসক্লাব-মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

