জাফর আহমেদ:- পে-অর্ডার ছাড়াই লাকসাম কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক নিলামে অংশগ্রহণ করেছেন কুমিল্লা ৯ নির্বাচনী এলাকার সাবেক এমপি ও সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম।
একজন সংসদ সদস্য এই নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারে কিনা এই নিয়ে তখনকার সময়ে জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন থাকলেও এমপির ক্ষমতার দাপটের কাছে সবাই ছিল অসহায়।
বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড বাদী হয়ে কুমিল্লার অর্থ ঋণ আদালতে লাকসাম কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানি ডিক্রিজারী মামলা নং ৭/৯৪ দায়ের করে।
ওই মামলায় লাকসাম কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। সংসদ সদস্যের পরিচয় গোপন রেখে উক্ত নিলামে অংশগ্রহণ করেন লাকসামের সাবেক এমপি মোঃ তাজুল ইসলাম।
তাজুল ইসলাম ও খোরশেদ আলম নামে দুইজন এই নিলামে অংশগ্রহণ করলেও খোরশেদ আলম নিলামে কোন টাকার অংক প্রস্তাব করেনি এবং তাজুল ইসলাম ৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৫৫১ টাকার প্রস্তাব করে প্রস্তাবের সাথে জামানতের কোন পে-অর্ডার দাখিল করেনি।
একজন নিলাম ডাকে টাকার অংক প্রস্তাব করেনি, আরেকজন নিলাম ডাকে জামানতের পে-অর্ডার দাখিল করেনি এ অবস্থায় উক্ত নিলাম কার্যক্রম কতটুকু বৈধ হয়েছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
নিলামে অংশগ্রহণকারী খোরশেদ আলম বলেন, আমি উক্ত নিলামে অংশগ্রহণ করায় তাজুল ইসলাম এমপির লোকজন আমাকে হামলা মামলার হুমকি দিয়েছে। কোর্টে আমাকে পেলে আমার হাত পা ভেঙ্গে দেওয়ারও হুমকি দেয়। হামলা, মামলা ও জেলের ভয় দেখিয়ে ধার্য তারিখে আমাকে কোর্টে হাজির হয়ে নিলামে প্রতিদ্বন্দিতা করতে দেয়নি। আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে তারা আমাকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমার ক্ষতি পুষিয়ে দিবে বললেও আজ পর্যন্ত তাজুল ইসলাম বা তার প্রতিনিধিরা আমার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়নি। এই নিলামটি অংশগ্রহণমূলক নিলাম না হওয়ায় নিলামটি অবৈধ বলেও তিনি দাবি করেন।
কাগজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে ২৩ জুন ২০১০ সালে তাজুল ইসলাম ওই নিলামে অংশগ্রহণ করে জামানতের পে-অর্ডার ছাড়াই দরপত্র ড্রপ করেন।
২৩ তারিখে পে- অর্ডার ছাড়া দরপত্র ড্রপ করার ভুল স্বীকার করে ২৪ জুন ২০১০ ইংরেজি তারিখে আদালতে সশরীরে উপস্থিত না থেকে লিখিত জবানবন্দী দেন তাজুল ইসলাম।
ওই লিখিত জবানবন্দিতে তাজুল ইসলামের স্বাক্ষরটি তাজুল ইসলামের নয় বলে পর্যালোচনায় দেখা যায়।
জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম বলেন, নিলামের শর্ত মতে আমি গত ২৩/৬/২০১০ ইংরেজি তারিখে যমুনা ব্যাংক, কুমিল্লা শাখায় পে-অর্ডার নং 04 32697 সংগ্রহ করি। আমি টেন্ডার বক্সে দরপত্র ড্রপ করলেও ভুলক্রমে দরপত্রের সহিত পে-অর্ডারটি সংযুক্ত করি নাই। অদ্য ২৪/৬/২০১০ ইংরেজি তারিখে আদালতে আসিয়া বিষয়টি জানিতে পারিলাম এবং seeঅত্র আবেদনের সহিত আমার দরপত্রের পোষকতায় পে-অর্ডারটি মহোদয়ের সদয় বিবেচনার জন্য দাখিল করিলাম। নিদৃষ্ট তারিখে পে-অর্ডার না দিয়ে পরের দিন পে-অর্ডার জমা দিলে এই নিলাম যথাযথ কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এছাড়াও এই টেন্ডারটি অংশগ্রহণমূলক হয়নি বলেও কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়।
১৯২৯ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লাকসাম কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক। তৎকালীন বৃহত্তর লাকসামের ৫০ টি ইউনিয়নে লাকসাম কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সদস্য সমিতি ছিল। উক্ত সমিতির সদস্যদের চাঁদার টাকায় লাকসামে ৯৮ শতক সম্পত্তি ক্রয় করার পর সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লাকসাম নামে ৬৩৪ নং এস,এ, খতিয়ান সৃষ্টি হয়। এই সম্পত্তি বিনা অংশগ্রহণমূলক টেন্ডারে লাকসামের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলামের নামে বয়নামা করে দেন কুমিল্লার তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ জেসমিন আরা বেগম। বয়নামা নং ০১/২০১০ ইং। উক্ত বয়নামা রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য লাকসাম সাব-রেজিস্টারকে ২০১০ সালের ১৭ আগষ্ট নির্দেশ দেন উক্ত যুগ্ম জেলা জজ জেসমিন আরা বেগম। ওই নির্দেশের আলোকে লাকসাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিস উক্ত বয়নামা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেয় যার নং ১২৬৪০। উক্ত দলিল মুলে মালিক হয়ে তাজুল ইসলাম তার শ্যালক মহব্বত আলীর নামে আমমোক্তার নামা দলিল দিলে মহব্বত ওই জায়গায় ফ্লট করে বিক্রি করে দেয়।

