তাজু ইসলাম, নাঙ্গলকোট:-কোন চাঁদাবাজিও দখলদারি চলবে না, যারা চাঁদাবাজি, দখলদারি করে তাদেরকে ধরে পুলিশে দিন। আমরা নতুন করে আবার স্বাধীনতা পেয়েছি। ছাত্র সমাজ আমাদেরকে এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আমাদের ছাত্র জনতার যে ঐক্য তৈরি হয়েছে সে ঐককে আরো মজবুত করে ধরতে হবে। আমাদেরকে সেটি রক্ষা করতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ডক্টর ইউনুসের যে সরকার বর্তমানে আছে, এ অন্তর্বর্তী সরকারকে আমাদের সময় দিতে হবে। আমরা অনেকগুলো বিষয়ে কথা বলেছি, বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার করতে হবে। বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজাতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনকে সংস্কার করতে হবে। আপনারা গত ১৫ বছর ভোট দিতে পারেন নাই। এবার আপনারা ভোট দিতে পারবেন। আমার ভোট আমি দিব যাকে খুশি তাকে দিব। হাসিনা পালিয়েছে, তার মন্ত্রীরা পালিয়েছে, আওয়ামী লীগ পালিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া পালায় নাই। আমরা পালাই নাই। ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যে ফ্যাসিস্ট আমাদের থেকে বিদায় হয়েছে তারা আবারও ফিরে আসতে চেষ্টা করবে। আমাদেরকে ১৫-১৬ বছর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছে। আমাদের প্রায় ৭শ নেতা কর্মীকে ঘুম করেছে। তারা ফিরে আসলে আগের মত আবার আমাদের উপর অত্যাচার করবে। কয়েক হাজার লোককে গুলি করে হত্যা করেছে। আজকে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করতে আসি নাই, বন্যায় আমাদের অনেক ভাই বোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। অনেকে মনে করেন আমরা স্বাধীন হয়ে গেছি এখন যা খুশি তা করবো, কিন্তু না যা খুশি তা করতে পারবেন না। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করবো, পুলিশকে সহযোগিতা করবো, প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো। আমরা দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করবো।
গতকাল শনিবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিতে ও তাদের সহায়তা প্রদানের জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাঙ্গলকোট সফর করেন। এ উপলক্ষে বিকেলে নাঙ্গলকোট এ আর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি যুগ্ন আহবায়ক ও নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি আহবায়ক নজির আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিতে, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন নয়ন এর সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ভূঁইয়া।
জনসভায় বিএনপি যুবদল ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হন। জনসভা শেষে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিবাদমান দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপস্থিত হাজার হাজার নেতা কর্মী ও পুরো নাঙ্গলকোট বাজারে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া পাটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটনায় সংবাদকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

