লাকসামে ভারীবর্ষণের ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, ক্ষতির মুখে মৎস্যচাষিরা

পোস্ট এর সময় : ১:১৮ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ১০

দেবব্রত পাল , লাকসাম
কুমিল্লার লাকসামে ৪ দিন ধরে ভারী বর্ষণ ও ব্যাপক বৃষ্টিপাতের উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার পুকুরের মাঝ খেসে গেছে। বিভিন্ন কৌশলে ঘের দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ চাষিরা। এছাড়া গ্রামকে গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেক রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। এরমধ্যে পৌর এলাকা নি¤œাঞ্চল অবস্থিত কোমাড়ডোগা, ইরুয়াইন, ফতেপুর, ধামৈচা সহ বেশ কয়েকটি পুকুর ভেসে ক্ষতি হয়েছে বেশি। এসব পুকুরে বিভিন্ন জাতের বড় মাছ ও পোনা ছিল।
উপজেলা মৎস্য সূত্রে জানা যায়, পুরো উপজেলায় ব্যাক্তিমালিকানা পুকুরের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। আর সরকারি খাস পুকুর রয়েছে প্রায় ৫৬টি মতো। গত ৮ জুলাই মঙ্গলবার থেকে ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে এসব পুকুর তলিয়ে যায়। সূত্রটি আরও জানায়, আজগরা গ্রামের শতাধিক পুকুর ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে। আজ ১৩ জুলাই এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলার প্রায় দেড় হাজার পুকুরের ভেসে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ পুকুরের সংখ্যা আরও বাড়বে। এসব পুকরে বিভিন্ন জাতের বড়মাছ ও পোনা ছিল। এতে টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমান প্রায় দেড় কোটি। এসব পুকুরে প্রায় ২৫ মেট্রিকঁন মাছ ছিল। পোনা ছিল প্রায় ১২ লাখ। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে লাকসাম পৌরসভার মাছচাষী বেলাল মজুমদার জানান, আমার বেশকটি মাছের বেড়ি আছে। টানা বর্ষণে আমার বেড়ি থেকে অনেক মাছ চলে গেছে। নেট দিয়ে কোন ভাবে ধরে রাখতে পারছিনা। আমার প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমাকে অনেক টাকা লোকসান গুনতে হবে। কয়েকদিন ভারী বর্ষণে এসব পুকুর ভরে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। মাছগুলোর ওৎন ছিল দুই থেকে আড়াই কেজি।
বাকই ইউনিয়ন মাছচাষী দেলোয়ার হোসেন জানান, আমার ৩৫টি পুকুর আছে তার মধ্যে ২৫টি উপর পুকুর থেকে মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। এতে আমার প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি সাধিত হয়ে গেছে। আমার ব্যাংকের ঋন আছে। এ মাসেই আমার মাছ বিক্রি করার কথা ছিল কিন্তু তার আগেই সর্বনাশ হয়ে গেছে।
মৎসচাষী খায়ের মিয়া জানান, টানা ভারী বর্ষণেও ব্যাপক বৃষ্টিপাতের তার সব বেড়ির প্লাবিত হয়ে মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। কোন মতই রক্ষা করা যাচ্ছে না। এখন কি করব বলে চিন্তিত হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন খোকন পোদ্দার।
এ ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শওকত আলী জানান,ভারী বর্ষণে কিছু কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবার জলাবদ্ধতা কোথাও তেমনি হয়নি সে জন্য মৎস্য চাষীদের মাছ তেমন ভেসে যায়নি। মৎস্যচাষীরা যদি উচু করে পাড় বাধে তাহলে তাদের জন্য ভাল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *