বাসে ধর্ষণ করে গৃহবধূকে নিয়ে ঘোরে চালক

পোস্ট এর সময় : ১১:০১ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ১৫

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা:-ঢাকায় স্বামীর কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে একটি বাসে ওঠেন গৃহবধূ। কিন্তু ভুল করে হালুয়াঘাটগামী বাসে উঠে বসেন ঈশ্বরগঞ্জের এই নারী। কিছুক্ষণ পর স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে হালুয়াঘাট বাসস্ট্যান্ডে নামেন ওই গৃহবধূ। সেখান থেকে তাকে ঢাকাগামী একটি বাসে তুলে দেন আগের বাসটির চালকের সহকারী।

সেখান থেকে পিছু নেন ইমাম বাসের চালক জাহাঙ্গীর আলম (৩১)। কিছু দূর যাওয়ার পর গৃহবধূকে ফুসলিয়ে নামিয়ে নেন তিনি। কায়দা করে ধারা বাজার এলাকায় রেখে দেওয়া বাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনা ঘটে গত ১৬ অক্টোবর। শুক্রবার সাংবাদিকদের বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিব।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম সরলতার সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে বুঝিয়ে বলেন, ‘এই বাসে গেলে ঢাকা যেতে গভীর রাত হয়ে যাবে। সে যেন তার বাসে ঢাকায় যায়। তার বাস রিজার্ভ করা আছে এবং ধারা বাজার এলাকায় রাখা। রাত ৮টার মধ্যেই ঢাকা নিয়ে যাবেন।’

ওই নারী সরল বিশ্বাসে তার সঙ্গে ধারা বাজার মুরগী মহল এলাকায় নেমে পড়েন। তারপর জাহাঙ্গীর আলম ওই নারীকে নিয়ে মুরগি মহলের পাশে নির্জন স্থানে দাঁড় করে রাখা ‘ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৯৬৫৮’ নম্বরের ইমাম বাসে উঠে বসতে বলে। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বাসটির চালক জাহাঙ্গীর গিয়ে বাসের দরজা বন্ধ করে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী চিৎকার করতে চাইলে গলা চেপে ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ধর্ষণের পর সে নারীকে বাসে রেখে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে চলে যায়। এক ঘণ্টা পর আবারও জাহাঙ্গীর ফিরে এসে ওই গৃহবধূকে বিয়ে করবে বলে প্রলোভন দেখায়। ওইদিন রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম ইটভাটার রিজার্ভ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এবং পরদিন ভোরে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছায়।

১৭ অক্টোবর সকালে ফের ওই নারীসহ বাস নিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। এরপর হালুয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাঙ্গীর আলম। বেলা ৩টার দিকে হালুয়াঘাট উপজেলার নাগলা বাজার পৌঁছে বাসের সহকারী ফয়সালকে জাহাঙ্গীর আলম বলে, ‘এই মহিলাকে বিয়ে করেছি, সে তোর নতুন ভাবি। তাকে বাড়িতে নিয়ে যা। আমি রাতে আসব। পরে জাহাঙ্গীর আলম রাতে ফয়সালদের বাড়িতে এসে একই পরিচয় দেয় এবং ওই নারীর সঙ্গে রাত্রিযাপন করে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করে।’

১৮ অক্টোবর ভুক্তভোগীকে নিয়ে পৌর শহরের পাগলপাড়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয় জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে তৃতীয় দফা ধর্ষণ করে ওই নারীকে বাসায় রেখে চলে যায় জাহাঙ্গীর। সুযোগ বুঝে ১৯ অক্টোবর রাতে তার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানান তিনি। তার বাবার মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট-থানা পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র রায় বলেন, জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ধর্ষণের শিকার নারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *