দেশজুড়ে ডেঙ্গুর দাপট: ১১ দিনেই ১৩ হাজার আক্রান্ত, মৃত্যু বেড়ে ১৪৩

পোস্ট এর সময় : ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ , ভিজিটর : ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:-দেশে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী, যার ফলে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর প্রচণ্ড চাপ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৭ হাজার ১৭০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১০২ জনের। মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ২৭৬ জনে।

আর এই সময়ে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১৪৩ জন। অর্থাৎ, এই কয়েক দিনেই নতুন করে ১৩ হাজার ১০৬ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

ডেঙ্গু এখন আর কেবল রাজধানী ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘থেমে থেমে বৃষ্টিপাত ও এডিস মশার অনুকূল তাপমাত্রার কারণে সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরজুড়েই পরিস্থিতি খারাপ থাকতে পারে। এডিস মশা এখন জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামেও বিস্তার লাভ করেছে।’

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানেও ঢাকার বাইরে রোগীর চাপ বাড়ার সত্যতা মিলেছে। গত কয়েক দিনে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ বিভাগে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এর মধ্যে গাজীপুরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭৬৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ হাজার ৭৪০ জনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে এবং কক্সবাজারেও রোগীর চাপ বেড়েছে।

এদিকে, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকটও দেখা দিচ্ছে। মৃত্যু বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তের দিক থেকে পুরুষেরা এগিয়ে থাকলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যাই কিছুটা বেশি। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট মৃতদের মধ্যে ৬৭ জন পুরুষ এবং ৭৩ জন নারী।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও মৃত্যুঝুঁকি কমানোর বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, জ্বর আসার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় পর চিকিৎসা নিতে গেলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে ‘শক সিনড্রোম’-এর ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ব্যক্তি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে এবং এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। প্রতিদিন নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি ফেলে দিলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *