চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী

পোস্ট এর সময় : ৮:৫০ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:-প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে |

সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিএনপিতে কোনো জায়গা নেই। কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে অন্যায় করে পার পেয়ে যাবেন, এমন সুযোগ দল দেবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভামঞ্চে সংসদ নেতা ও বিএনপি চেয়ারম্যানের এক পাশে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম এবং অন্য পাশে আব্দুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বসেন।

সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘণ্টা চলে এ বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা, সরকারের কার্যক্রম, সংসদ পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘গত মাসের ১০ তারিখে সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হয়েছে। আগামী মাসে আবার নতুন অধিবেশন শুরু হবে। সাধারণত দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে এ ধরনের বৈঠক হয় না। তবে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং সমাধানের পথ বের করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠকের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ সদস্যদের কথা শুনেছেন। কে কোথায় কী সমস্যায় পড়েছেন, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা নিজ নিজ দায়িত্বের বিষয়গুলোতে কথা বলেছেন। স্থানীয় সরকার, আইন-শৃঙ্খলা, বিচার বিভাগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় এসেছে।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘সরকারের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা ও মানুষের কাছে সরকারের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সরকারের কার্যক্রম মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে কিনা, কোথাও সমস্যা থাকলে তা সংসদ নেতা ও মন্ত্রীদের জানাতে সংসদ সদস্যদের বলা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’

আসন্ন দুর্গা পূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘পূজায় যাতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কাজ করবে। পাশাপাশি বিএনপির নেতারা, কর্মী এবং সংসদ সদস্যদেরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে বলা হয়েছে। সনাতন সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কেউ যাতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ বলেন, ‘বৈঠকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থাকার কথা বলা হয়েছে।’

চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’

আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনার কিছু নেই। কেউ ফিরে আসতে চাইলে আসতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *