গ্যাস সরবরাহ বন্ধ নয়, কমবে চাপ: পেট্রোবাংলা

পোস্ট এর সময় : ১০:৩২ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:-গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তবে আগামী চার দিন সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের কিছু এলাকায় স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। এ নিয়ে ছড়ানো গুজবে কান না দিতে গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার দিন পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে মহলবিশেষে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চার দিন একটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) বন্ধ রাখা হবে। এতে দৈনিক প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাবে। ফলে দৈনিক সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়নে নেমে আসবে। এ কারণে কিছু এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে। আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টায় ইউনিটটি পুনরায় চালু হলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
পেট্রোবাংলার একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে জানান, সামিট গ্রুপের মালিকানাধীন ওই এফএসআরইউটি আগামী ৩ নভেম্বর থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখার কথা ছিল। তবে তা পিছিয়ে ৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত কমে যাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২০১৮ সালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে একটি সামিট গ্রুপ এবং অপরটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালনা করছে।
একসময় দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা কমে ১ হাজার ৫৭৬ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৯৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। একটি এফএসআরইউ বন্ধ থাকলে অপরটি থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে মোট সরবরাহ ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে আসতে পারে।

দুটি এফএসআরইউ সচল থাকলেও গ্যাস সংকটে নাকাল গ্রাহকরা। অনেক এলাকায় দিনের বেলাতেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত গ্রাহকদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে প্রকৃত চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করে সরবরাহ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *