সাংবাদিকতায় আজ অর্ধশতাব্দী: মশিউর রহমান সেলিমের বর্ণাঢ্য পথচলা

পোস্ট এর সময় : ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ , ভিজিটর : ৯

মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন:- লাকসাম তথা কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিকতা অঙ্গনে মশিউর রহমান সেলিম এক পরিচিত ও সুপরিচিত নাম। সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি আর লেখনীর মাধ্যমে স্থানীয় জনজীবনের নানা সমস্যা,সম্ভাবনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরতে কেটেছে তাঁর জীবনের দীর্ঘ পাঁচ দশক। সময়ের পরিবর্তন, গণমাধ্যমের বিবর্তন আর অসংখ্য ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী হয়ে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা এখন সাংবাদিকতা জীবনের এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলকে এসে দাঁড়িয়েছে।


১৯৭৬ সালের ২৬ অক্টোবর সাপ্তাহিক জাতীয় নিশান পত্রিকায় লেখালেখির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সাংবাদিকতার যাত্রা। সেই যাত্রার ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার ২৬ অক্টোবর। কৈশোরের প্রারম্ভে শুরু হওয়া সংবাদপত্রের প্রতি ভালোবাসা পরবর্তী সময়ে রূপ নিয়েছে দীর্ঘ পেশাগত জীবনে। ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা তাঁকে পরিচিত করেছে লাকসামসহ কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিকতা জগতের একজন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী হিসেবে।


ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী থেকে পাঁচ দশকের সাংবাদিক
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে মশিউর রহমান সেলিম ছিলেন লাকসাম শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাকসাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। যে বয়সে সহপাঠীদের কাছে পড়াশোনা আর খেলাধুলাই ছিল প্রধান আকর্ষণ, সেই বয়সেই সংবাদপত্রে লেখালেখির মাধ্যমে তিনি পা রাখেন সাংবাদিকতার জগতে। অল্প বয়সে সংবাদ ও লেখালেখির প্রতি তাঁর এই আগ্রহয় পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ পেশাগত পথচলার ভিত্তি তৈরি করে।
তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা ছিলেন বাবা ভাষাসৈনিক ও সাংবাদিক জিন্নাতের রহমান। বাবার হাত ধরেই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পারিবারিক পরিবেশে সংবাদচর্চার সুযোগ, লেখালেখির প্রতি আগ্রহ এবং বাবার অনুপ্রেরণা তাঁকে এই পেশার প্রতি আরও নিবেদিত করে তোলে। ১৯৭৬ সালের ২৬ অক্টোবর সাপ্তাহিক জাতীয় নিশান-এ লেখালেখির মধ্য দিয়ে যে অধ্যায়ের সূচনা, সময়ের সঙ্গে তা পরিণত হয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সম্পৃক্ততায়। ছাত্রজীবনে শুরু হওয়া সেই পথচলা পাঁচ দশক পরও সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করছে।


‘নিশাচর’ নামেও পরিচিত
স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে মশিউর রহমান সেলিমের পরিচিতির আরেকটি বিশেষ দিক তাঁর বিভিন্ন উপনাম। সহকর্মীদের অনেকে তাঁকে ‘নিশাচর’ নামে ডাকেন। এই নামটি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তাঁর পরিচিতির সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি এবং স্থানীয় নানা ঘটনাপ্রবাহ গণমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক। স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনের নানা সময় ও পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁকে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।


সাংবাদিকতার পাশাপাশি পুস্তক ব্যবসা
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মশিউর রহমান সেলিম একজন প্রতিষ্ঠিত পুস্তক ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীমুড়া গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও পুস্তক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের বহুমাত্রিক কর্মপরিচয়।
একদিকে সংবাদপত্রের জন্য সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরি, অন্যদিকে পুস্তক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁর কর্মজীবনের এই দুই ধারাই স্থানীয় সমাজে তাঁর পরিচিতিকে বিস্তৃত করেছে।

পাঁচ দশকের পথচলায় সহকর্মীদের অভিনন্দন
মশিউর রহমান সেলিমের সাংবাদিকতা জীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সহকর্মীরা তাঁর দীর্ঘ পেশাগত পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আগামী দিনের সাফল্য কামনা করেছেন।


তাঁদের মতে, সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়া সহজ নয়। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল সংবাদজগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রয়োজন ধৈর্য, অভিজ্ঞতা, অধ্যবসায় ও পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা। ছাত্রজীবনে সংবাদপত্রে লেখালেখির মধ্য দিয়ে শুরু করে পাঁচ দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকা মশিউর রহমান সেলিমের কর্মজীবন সেই দীর্ঘ সম্পৃক্ততারই প্রতিফলন।
পাঁচ দশকের সাংবাদিকতা: এক দীর্ঘ পথচলার মাইলফলক
মশিউর রহমান সেলিমের সাংবাদিকতা জীবনের ৫০ বছর পূর্তি কেবল একজন সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি লাকসাম ও কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনেরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তন, বিকাশ এবং বিভিন্ন সময়ের ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।


১৯৭৬ সালে যে কলম যাত্রা শুরু হয়েছিল, পাঁচ দশক পর সেই পথচলা পূর্ণ করছে অর্ধশতাব্দী। কৈশোরের লেখালেখি থেকে দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা এই যাত্রার প্রতিটি অধ্যায়ই তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের ধারাবাহিকতার পরিচায়ক।
সাংবাদিকতা জীবনের সুবর্ণজয়ন্তীতে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে মশিউর রহমান সেলিম আগামী দিনগুলোতেও তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও পেশাগত জ্ঞান দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে অবদান রেখে যাবেন। তাঁর পাঁচ দশকের এই পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সহকর্মীরা তার সুস্থতা কামনা করেছেন এবং সাংবাদিকতার জগতে তাঁর কলমের পথচলা অব্যাহত থাকুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *