হুয়াওয়ে ফোনে আপডেট দেবে না গুগল, থাকবে না ইউটিউব

পোস্ট এর সময় : ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ , ভিজিটর : ১০

চীনভিত্তিক স্মার্টফোন নির্মাণকারী ব্র্যান্ড হুয়াওয়েকে আর অ্যান্ড্রয়েড সেবা দেবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন টেক-জায়ান্ট গুগল। ফলে হুয়াওয়ের নতুন মডেলের হ্যান্ডসেটগুলোতে ইউটিউব, জি-মেইল, গুগল ম্যাপ, ক্রোম ব্রাউজারের মতো জনপ্রিয় গুগল অ্যাপসগুলো আর থাকবে না। এখন থেকে হুয়াওয়ের ডিভাইসগুলোতে কোনো ধরনের আপডেট ভার্সন দেবে না গুগল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইন ও জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি হুয়াওয়েকে যুক্তরাষ্ট্র এমন কোম্পানিতে তালিকাভুক্ত করেছে, যার সঙ্গে বাণিজ্য করতে হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। এরপরই গুগল এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ এর কারণে হুয়াওয়ের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বন্ধ করতে যাচ্ছে গুগল। তবে ‘ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম’-এ থাকা সফটওয়্যারগুলোই শুধু সচল থাকবে হুয়াওয়ের স্মার্টফোনগুলোতে।

গুগলের এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যম দুটি বলছে, চীনে গুগল ব্যবহার সীমিত আকারে থাকায় সেখানে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না এ সিদ্ধান্ত। তবে চীনের বাইরে অন্যান্য দেশগুলোতে অ্যান্ড্রয়েড এবং গুগলের নানারকম অ্যাপস বেশ জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত। তাই সেসব দেশের হুয়াওয়ে ডিভাইস ব্যবহারকারীরা পড়তে যাচ্ছেন বেশ বড় রকমের ঝামেলায়। যা চীনা প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক ব্যবসায় প্রভাব ফেলবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে হুয়াওয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কালোতালিকা’ ভুক্ত করে। এমন সিদ্ধান্তের পরেই নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায় গুগল। এর ফলশ্রুতিতে হুয়াওয়ের নতুন হ্যান্ডসেটগুলোতে আর অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম থাকছে না। থাকবে না ‘গুগল প্লে’ অ্যাপ স্টোর। তবে গুগল প্লে স্টোরের অ্যাকসেস থাকা বর্তমান হুয়াওয়ের ডিভাইস ব্যবহারকারীরা এখনো গুগলের অ্যাপ্লিকেশনের আপডেট ডাউনলোড করতে পারবেন।

তবে এ বিষয়ে হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ‘সম্ভাব্য’ সব উপায় হুয়াওয়ে খতিয়ে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, চীনের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য পাচারের মাধ্যমের গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত রয়েছে হুয়াওয়ে ও আরেক চীনা কোম্পানি জেডটিই। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে ফাইভ-জি সেবার কাজে প্রতিষ্ঠান দুটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *