মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে,এখনো ছড়াচ্ছে হামের সংক্রমণ

পোস্ট এর সময় : ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ , ভিজিটর : ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক:-দেশে হামে আক্রান্ত রোগী কমছে না। বরং প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। যা নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে অভিভাবকদের মধ্যে। গত প্রায় ৬ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ গেছে ১০০২ শিশুর। উপসর্গ মিলেছে প্রায় পৌনে ২ লাখ শিশুর শরীরে।

গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দেশে শিশুদের মধ্যে মহামারি আকারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ৬ মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৬৯ শিশুর শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে। চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ শিশু। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা।

এদিকে, গত এপ্রিলে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল যে, পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যেই দেশে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়ে যাবে এবং হাম পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটেনি। ফলে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, হার্ড ইমিউনিটি তৈরির জন্য যত শতাংশ শিশুকে টিকা দেয়ার প্রয়োজন ছিল, সরকার সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। এ ছাড়া অব্যবস্থাপনার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা এখনো বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এপ্রিল ও মে মাসের ক্যাম্পেইনে প্রায় এক কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ টিকার কাভারেজ শতভাগেরও বেশি বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা। যদিও শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনার দাবির বিষয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ পোষণ করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। তাদের সেই সন্দেহ পোক্ত হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরেকটি ক্যাম্পেইনের তথ্যে। হামের টিকার পর ওই একই বয়সী শিশুদের গত জুনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পাওয়া শিশুর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখের মতো।

২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দীর্ঘদিন নিয়মিত হামের টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়ে সংক্রমণ দেখা দেয়। ক্যাম্পেইনের পরও নতুন করে টিকাদানের উপযুক্ত হওয়া শিশুদের একটি অংশ এবং সচেতনতার অভাবে সময়মতো টিকা না পাওয়া শিশুরা টিকাবঞ্চিত থেকে গেছে। ফলে তাদের মধ্যে হাম ছড়াচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এখন হামের বিশেষ আরেকটি টিকার ক্যাম্পেনের কথা বলছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *