জাপার এমপি হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১৪ জুলাই

পোস্ট এর সময় : ১২:১২ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ১২

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, অপহরণ, নারীনির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও লাশগুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহ-৭ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

সাত ধরনের ছয়টি অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশনের আনা সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য ১৪ জুলাই দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন মামলার (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ঠিক করেছেন আদালত।

মামলায় সাবকে এমপি এম এ হান্নান ছাড়া অপর আসামিরা হলেন- তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ (৬২), মো. ফখরুজ্জামান (৬১), মো. আব্দুস সাত্তার (৬৪), ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমদ (৬৯), খন্দকার গোলাম রব্বানী (৬৩), মিজানুর রহমান মিন্টু (৬৩), মো. হরমুজ আলী (৭৩)। এর মধ্যে মো. ফখরুজ্জামান, মো. আব্দুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রব্বানী পলাতক। বাকি সবাই গ্রেফতারের পর কারাগারে আছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, তাপস কান্তি ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই মামলার তদন্ত শেষ করে ৪১তম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই অভিযুক্ত আট আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই। তা শেষ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. মতিউর রহমান।

তদন্তের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের বিরুদ্ধে ছয়টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয় প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে। এর আগে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের সেফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় বলে জানান প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

২০১৫ সালের ১৯ মে এমপি হান্নানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন। মামলায় এমএ হান্নান ছাড়াও জামায়াতনেতা ফকরুজ্জামান ও শহরতলীর গোলাম রব্বানীকে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে আরও পাঁচজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এ মামলার আসামি করা হয় আটজনকে।

২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলে ওইদিনই হান্নানকে গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে এবং ছেলে রফিক সাজ্জাদকে ওই এলাকার একটি অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয় ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির, মিজানুর রহমান মিন্টু ও হরমুজ আলীকে।

ময়মনসিংহ- ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক পরে এজাহারটি গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে ট্রাইব্যুনালে মামলার কার্যক্রম চলছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার আনা অভিযোগ

প্রথম অভিযোগ : ১৯৭১ সালের ২৩ ও ২৪ এপ্রিল ময়মনসিংহের গোলকীবাড়ী বাইলেনের প্রখ্যাত ভাস্কর আব্দুর রশিদকে অপহরণ, নির্যাতনের পর জিপগাড়ির পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে নির্মমভাবে হত্যা ও লাশ গুম।

দ্বিতীয় অভিযোগ : একাত্তরের ২ অগাস্ট ত্রিশাল থানার বৈলর হিন্দুপল্লী ও মুন্সিপাড়ায় অগ্নিসংযোগ, সেন্টুকে গুলি করে হত্যা ও দুজন হিন্দুকে গুলি করে আহত, শহীদ আ. রহমানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যার ঘোষণা।

তৃতীয় অভিযোগ : একাত্তরের ৭ থেকে ৯ আগস্টের মধ্যে বৈলরের আ. রহমান মেম্বারকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম।

চতুর্থ অভিযোগ : ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে খন্দকার আব্দুল আলী রতনকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম।

পঞ্চম অভিযোগ : ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মো. আবেদ হোসেন খানকে আটক, নির্যাতন ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর। এছাড়া ৭ থেকে ১০ অগাস্টের মধ্যে কে এম খালিদ বাবুকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামিরা ময়মনসিংহ শহরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলো, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল, অভিযুক্ত এমএ হান্নানের রামবাবু রোডের ৫৯নং বাড়িকে ‘টর্চারসেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *