তাজুল ইসলাম, নাঙ্গলকোট:-কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের প্রবাসী অলি উল্লার বাড়ীঘরে হামলা, ভাংচুর ও তার স্ত্রী রুমি আক্তারকে প্রাণ নাশের উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে একই গ্রামের আবুল কাসেম, জামাল হোসেন ও আলেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় কুমিল্লার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র অলি উল্লাহ দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তার স্ত্রী ও ৩ সন্তান গ্রামের বাড়ীতে থাকেন। তাদের পার্শ্ববর্তী মৃত আব্দুল মজিদের পুত্র আবুল কাশেম ২০১৫ সালে অলি উল্লাহকে জমি ক্রয় করে দেয়ার কথা বলে ৩ লক্ষ ৫০হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে। ২০২২ সালে অলি উল্লাহ প্রবাস থেকে ছুটিতে দেশে আসার পর আবুল কাসেমের নিকট টাকা ফেরত চাইলে আবুল কাসেম ও তার পুত্র জামাল হোসেন প্রবাসী অলি উল্লাহকে মারধর করে। এ ব্যাপারে অলি উল্লাহ বাদী হয়ে গত ০২/০৬/২০২২ইং চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও খেয়াইশ গ্রাম ঐক্য কল্যাণ পরিষদের মধ্যস্থতায় আবুল কাশেম অলি উল্লাহর টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। অলি উল্লাহ জীবিকার তাগিদে আবারো প্রবাসে চলে যাওয়ার পর আবুল কাশেম অলি উল্লাহর পরিবারকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদ ও নানা ভাবে ভয় ভীতি প্রদান করে আসছে।
আবুল কাশেম সুযোগ পেলেই অলি উল্লাহর স্ত্রী রুমি আক্তারকে বিভিন্ন সময়ে কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছে।সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর আবুল কাশেম রুমি আক্তারকে মোবাইল ফোনে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে রুমি আক্তার সাড়া না দেয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রুমি আক্তার দুপুরের খাওয়া রান্না করার সময় আবুল কাসেম ও তার স্ত্রী আলেয়া খাতুন, পুত্র জামাল হোসেন অতর্কিতভাবে রুমি আক্তারের উপর হামলা চালায়।
এসময় তারা রুমি আক্তারকে প্রাণ নাশের উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে এলোপাতাড়ি হামলা করে এবং রান্না ঘরে ভাংচুর চালায়।
রুমি আক্তারের শোর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা চলে যায়।
এ ঘটনায় রুমি আক্তার বাদী হয়ে কুমিল্লা বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫নং আমলি আদালতে সিআর মামলা নং ৯৯৮/২০২৩ দায়ের করেন।
হামলা, হুমকি – ধামকির ঘটনায় রুমি আক্তার তার ৩ শিশু সন্তান নিয়ে জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে আবুল কাসেম বলেন, আমি অলি উল্লাহর বড় ভাই হাবীব উল্লাহ থেকে এয়াজ দলিলের মাধ্যমে ৭.২৫ শতক জমি মালিকানা লাভ করি। সে সুবাদে রুমি আক্তারের রান্না ঘরের জায়গাটি আমার। রুমি আক্তার রান্নাঘরটি নতুন করে তৈরি করতে গেলে আমি বাঁধা দেই এবং চুলা ভাংচুর করি। তাকে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বলেন, এ সম্পত্তিটি অলি উল্লাহর পৈত্রিক সম্পত্তি এখানে আবুল কাশেম অনাধিকার চর্চা করেছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে রান্নাঘরটি ভাঙচুর করে। রুমি আক্তারের উপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন ঘটনাটি সত্য। আমি কয়েকবার সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু আবুল কাশেম তা মানেনি। আমরা চাই তার উপযুক্ত শাস্তি হোক।

