দল হারলে শুধু ক্রিকেটাররাই না, কর্মকর্তারাও হারে : বিসিবি সভাপতি

পোস্ট এর সময় : ১২:২৮ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ৭

ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ড সভাপতি বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন, দিয়েছেন নানা দিকনির্দেশনাও। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অনেক কিছুই জানতে চেয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি।

ক্রিড়া প্রতিবেদক : এশিয়া কাপ সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ দল। নিজেদের আরো ঝালিয়ে নিতে ফিটনেস ক্যাম্প ও স্কিল অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। তবে এরই মাঝে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতির সাথে বৈঠকে বসেন মিরাজ-শান্তরা।

পরিবারের সাথে ছুটি কাটিয়ে পরশু অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এরপর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর একটি পাঁচ-তারকা হোটেলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠকে বসেন।

জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারসহ আরো অনেকেই। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালকরা। পাশাপাশি মেডিক্যাল বিভাগের চিকিৎসক, কোচিং স্টাফের সদস্যরাও ছিলেন।

সেখানে ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ড সভাপতি বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন, দিয়েছেন নানা দিকনির্দেশনাও। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অনেক কিছুই জানতে চেয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি।

দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে বিশেষ করে জাতীয় দলের মঙ্গল ও কল্যাণে করণীয় কী, কী হচ্ছে কি হয়নি আর কী কী হওয়া দরকার; এসব সব লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছিল ক্রিকেটারদের। ক্রিকেটাররা তা লিখে জানিয়েছেন। আবার মাইক্রোফোন হাতে কথা বলেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত দিয়েছেন।

ক্রিকেটারদের সাথে এমন প্রাণখোলা আলাপে খুব খুশি বিসিবি প্রধান। তাই তার মনে হয়েছে প্রতি তিন মাস পরপর বোর্ড প্রধান তথা বোর্ডকর্তাদের সাথে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এমন আন্তরিক ও খোলামেলা বৈঠক হওয়া দরকার।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমরা খেলোয়াড়দের কতটুকু সাহায্য করতে পারছি। সেই সহায়তায় এই মুহূর্তে কতটুকু ঘাটতি রয়েছে, ওই জায়গাটা কীভাবে পূরণ করব যাতে আমাদের ক্রিকেটাররা নিশ্চিন্তে মাঠে খেলতে পারে।’

‘আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রতি তিন মাস পরপর এরকম একটা সেশন করবো ক্রিকেটারদের সাথে। আমাদের জায়গা থেকে যে সমস্ত জায়গায় উন্নতির দরকার রয়েছে, ক্রিকেটারদের সহায়তার জন্য সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।’

বিসিবি প্রধান বুলবুলের অনুভব, ক্রিকেটের যত স্টেকহোল্ডার আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার হলেন ক্রিকেটাররা। তাই তার মনে হয় সেই ক্রিকেটারদের দেখভাল করার দায়িত্ব বিসিবির। সে দায়িত্ব যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা জানতেই এই বৈঠক।

বুলবুল বলেন, ‘যারা মাঠে খেলে, তাদের দেখভাল করা আমাদের দায়িত্ব। মাঠে কোচরা যে দেখভাল করেন, সেটিই সবকিছু নয়। এখানে লজিস্টিক, পিচ কন্ডিশন, অনুশীলন সুবিধা, চিকিৎসাসহ সব বিষয়ে কতটুকু সহায়তা করতে পারছি, সেসব জানতেই নানা প্রশ্ন দেয়া হয় ।

‘এসব বিষয়ে ক্রিকেটাররা মন খুলে লিখেছেন, সাজেশন দিয়েছেন। সেখান থেকে জানতে পারছি আমরা আসলে কোথায় অবস্থান করছি। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব। আমরা একটি টিম, এই টিম একসাথে কাজ করলে সামনের দিকে যে এগিয়ে যেতে পারব, তার একটি প্রতিচ্ছবি আজ দেখতে পেরেছি।’

‘আমরা জরিপ করেছি, খেলোয়াড়রা তাদের মনের কথা লিখেছে। সবথেকে ভালো লেগেছে মনের কথা লেখার পরেও আজ তারা শারীরিকভাবে এসেছে সমস্যাগুলো, সফলতাগুলো শেয়ার করেছে। ক্রিকেট বোর্ড থেকে তারা যে সহায়তা পাচ্ছে, তাতে খুশি। আরো কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে উন্নতি করা যায়।’

বিসিবি প্রধানের শেষ ভালো লাগা ছিল যে, তিনি ক্রিকেটারদের সাথে কথা বলে বোঝাতে পেরেছেন যে সবাই মিলেই একটা দল। বুলবুল বলেন, ‘জাতীয় দল হারলে শুধু ক্রিকেটাররাই হারে না, কর্মকর্তারাও হারে। কারণ সবাই মিলেই আমরা একটা দল। দিনশেষে এটা আজকে বোঝাতে পেরেছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *