দেবব্রত পাল বাপ্পী
প্রতিবছরের ন্যায় কুমিল্লার লালমাই উপজেলার আলীশ^র শান্তিনিকেতন বৌদ্ধ বিহার জাকজমকপূর্ন ভাবে থেরবাদী বৌদ্ধদের শ্রেষ্ঠ জাতীয় ধর্মীয় উৎসব দানশ্রেষ্ঠ দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব শুক্রবার বিকেলে বিহার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রিয়দর্শী মহাস্থির এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিমাদ্রী খীসা। আর্শীবাদক কর্মবীর ভদন্ত শীলভদ্র মহাস্থবির, উদ্বোধক আলীশ্বর শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ শাসনবিধি ভদন্ত জিনানন্দ মহাস্থবির। প্রধান জ্ঞাতি সদ্ধর্ম সারথী ভদন্ত প্রজ্ঞাবোধি মহাস্থির, প্রধান ধর্মালোচক ভদন্ত শীলমিত্র মহাস্থির, বিশেষ অতিথি ছিলেন লালমাই থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহীদুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিহার উদযাপন কমিটির সভাপতি তপন কুমার সিংহ, সাধারণ সম্পাদক সুদীপ চন্দ্র সিংহ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দায়ক-দায়িকা ও উপাপসক উপসিকাবৃন্দ।
মন্দির সূত্রে জানা যায়, শীল সমাধি প্রজ্ঞানুশীলন এর মোক্ষম সময় পবিত্র ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস আর প্রবারনা মধ্যে দিয়েই সমাপ্ত হয় বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান। শুভ প্রবারনা পূর্নিমার পরদিন থেকে বৌদ্ধিক ভাবাদর্শে বিশ^বাসী জেগে উঠে উৎসবমূখর পরিবেশ এক মহাদান, দানশ্রেষ্ঠ,দানরাজ শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব ও বৌদ্ধদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বৌদ্ধদের এই বড় উৎসবকে ঘিরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ মিলনমেলা ঘটেছে। মন্দিরের পাশে স্কুল মাঠে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দোকানীরা হরেক রকম মালামালা নিয়ে পসারা সাজিয়ে বসেছে। বৌদ্ধ ভক্তবৃন্দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, কঠিন চীবর দানে আসতে পেরে আমাদের খুবই আনন্দ লেগেছে। আমরা ভগবান গৌতম বুদ্ধদেবের কাছে প্রার্থনা করেছে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে যাতে সুখে শান্তিতে থাকতে পারি। এছাড়া দেশের মঙ্গল কামনা করেছি।
প্রধান অতিথি হিমাদ্রী খীসা বক্তব্যে বলেন, আমাদের এই কঠিন চীবর দানউৎসবটি আমাদের জন্য অনেক বড় ধর্মীয় উৎসব। আমাদের রাঙ্গমাটিতে আমার এই উৎসব অন্যরকম ভাবে উদযাপন করি। যা হোক আমি আয়োজকবৃন্দ শুভেচ্ছা জানায় আমাকে আমন্ত্রিত করার জন্য। আপনাদের সকলের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

