লাকসামে কুয়াশাচ্ছন্ন কনকনে শীতে
ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ

পোস্ট এর সময় : ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ , ভিজিটর : ২৫

শিল্পী দত্ত, লাকসাম
পৌষের শুরু থেকেই সারা দেশের মতো লাকসামে প্রকৃতিতেও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দিনের বেশিরভাগ সময়েই মিলছে না সূর্যের দেখা। কুয়াশার সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডায় পৌষের মাঝামাঝি সময়ে এসে শীতের তীব্র্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ। আর শীতের তীব্রতায় ভোগান্তিতে পড়ছেন গৃহহীন, ছিন্নমূল, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
ভোর ও রাতের ঘন কুয়াশা, উত্তরের হিমেল হাওয়া আর সূর্যহীন দিনগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। এ অতিরিক্ত শীতে খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষ, দিনমজুর, অটো রিকশাচালক ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শীতের কারণে গবাদিপশু নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়েছেন খামারিরা। অদ্য বুধবার সকাল ১০.১৫ মিঃ পর্যন্ত কুয়াচ্ছন পুরো উপজেলা সুর্যের দেখা মিলেনি।
সরেজমিনে উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। কনকনে শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে কাকডাকা ভোরে কাজে বের হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ।
পৌরশহরের কামোরডোগা এলাকার ভ্যান চালক রফিক মিয়া, অটোরিকশা চালক সেলিম মিয়া, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন এলাকার অটো রিকশা চালক সুজন, অটোরিকশা চালক আব্দুল লতিফ, নরপাটি ইউনিয়ন ভ্যান চালক সোহেল মিয়াসহ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে বলেন, ‘মাঝে কিছুদিন শীত কম ছিল। কিন্তু কয়েক দিন ধরে প্রচন্ড শীত পড়েছে, সঙ্গে বাতাস বইছে। এই শীতে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। তারপরও পেটের তাগিদে কাজে বের হতে গিযয়ে সর্দি-কাশি লেগেই থাকছে। আমরা তো দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। আয়ে কমে যাওয়ায় খুব সমস্যায় পড়েছি।’
তারা আরও বলেন, এই তীব্র শীতের মধ্যেও আমাদের ভ্যান, রিকশা কিংবা অটোরিকশা নিয়ে বের হতে হয়। প্রচন্ড শীতে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যাত্রী না থাকায় সারাদিন গাড়ি চালিয়েও ২০০-৩০০ টাকার বেশি আয় হচ্ছে না। এই আয় দিয়ে মালিকের জমাই ঠিক মতো চালাতে পারছি না, সংসার খরচ তো দূরের কথা।
গোপালপুর এলাকার কোমারডোগা গ্রামের কৃষক সোলাইমান মিয়া বলেন, যতই কুয়াশা আর শীত পড়ুক, আমাদের মাঠের কাজে যেতেই হয়। কাজ না করলে মুখে ভাত উঠবে না। সেই সাথে রয়েছে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোর চাপ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই দুর্যোগময় সময়ের মধ্যে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শীতবস্ত্র বিতরণসহ সামাজিক ও সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলে কষ্ট কিছুটা লাঘব হতে পারে।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নাজিয়া বিনতে আলম জানান, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভুগছেন। হাঁচি, সর্দি, কাশি, হাঁপানি ও ডায়রিয়ার রোগী বাড়ছে। শিশুদের গরম পোশাক পরানো ও অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস সুলতানা জানান, কনকনে শীতে উপজেলা ও পৌরসভা সহ গরীব ও অসহায়দের মাছে কম্বল বিতরণ করছি। এ বছর শীত বেশি পড়ছে তাই শীতে সকল পেশার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *