ফিরলো তবে লাশ হয়ে

পোস্ট এর সময় : ২:৩১ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ১২


নিজস্ব প্রতিবেদক:-শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সাথে ছবি তুলবে বলে মায়ের শখের আইফোনটি নিয়ে হাসিমুখে ঘর থেকে বেরিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতিম। কে জানতো, এই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া! নিখোঁজের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন প্রান্তর থেকে উদ্ধার হলো তার রক্তাক্ত নিথর দেহ।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ঘনঘটা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। তার মা নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, দুপুরে তার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিল ছেলেটি। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা এবং রাত নামলেও বুকের ধন আর মায়ের কাছে ফিরে আসেনি। ছেলেকে হন্যে হয়ে খুঁজে না পেয়ে শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে উদ্বিগ্ন পরিবার।
অবশেষে সব অপেক্ষার অবসান ঘটে এক বুকফাটা আর্তনাদের মধ্য দিয়ে। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামে লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন স্থানে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
যে ছেলেটির চোখেমুখে ছিল দুরন্তপনা আর হাজারো স্বপ্ন, সেই ছেলেটি আজ শুধুই এক নিথর দেহ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা নাহিদা বেগম, তার এই অবর্ণনীয় শোক যেন ছুঁয়ে গেছে পুরো কুমিল্লাকে। কীভাবে, কেন এই নিষ্পাপ কিশোরকে এমন করুণ পরিণতির শিকার হতে হলো সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন বাকরুদ্ধ সবাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *