ভষার লড়াই আর শিক্ষার বাতিঘর
লাকসামে ভাষাসৈনিক আবদুল জলিল

পোস্ট এর সময় : ৮:২৬ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ৪৮

এম.এ মান্নান লাকসাম,‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাঙালি জাতির চির প্রেরণা ও অবিস্মরণীয় একটি দিন। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, এখন সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণার প্রথম ধাপই হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। সেই ভাষা আন্দোলনের সাফল্য থেকে বাঙালি স্বপ্ন দেখেছে স্বাধীনতার আর পেয়েছে মুক্তিসংগ্রামের উজ্জীবনী শক্তি ও সাহস।কিন্তু যাদের বিনিময়ে এর সূচনা তার সঠিক ইতিহাস আমাদের অনেকেরই অজানা।ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ এলে অন্যতম যে নামটি সবার মনে পড়ে, সেটি হলো—ভাষাসৈনিক আবদুল জলিল, যিনি ‘ভাষা–জলিল’ নামেই পরিচিত কুমিল্লা জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের কাছে।
আবদুল জলিল ছিলেন সাংবাদিক, শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও ভাষাসৈনিক। তিনি১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চন্দনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ্ব বজলুর রহমান পন্ডিত এবং মাতা ওহায়েদা খাতুন।
৫২’র ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। দক্ষিণ কুমিল্লার প্রাচীন সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক লাকসাম’র প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার রচিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘বৃহত্তর লাকসাম ও কুমিল্লা সংক্ষিপ্ত অধ্যায়’সহ জনপদ কথামালা, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার সাংবাদিকতার উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস, ওগো বঙ্গবন্ধু, সাগর তীরে কেওড়াবনে, পীর মুর্শিদের বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি বই। তার লেখা নাটক ‘খুনে লাল বাংলা’ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও ভাষাসৈনিক আবদুল জলিলকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ট্র্যাব), বাসস, বাংলাদেশ বেতার কুমিল্লা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় সম্মাননা দিয়েছে।১৯৬৫ সালে তিনি লাকসামের উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কাজ শুরু করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা, খেলাঘর ও সুজন মজলিশের আঞ্চলিক সংগঠক হিসেব ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৮ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লাকসাম লেখক সংঘর মাধ্যমে একটি লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক গোষ্ঠী তৈরির স্বপ্ন সফল হয়েছে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চন্দনা প্রকাশনী, নুরজাহান স্মৃতি পাঠাগার, ভাষাসৈনিক মো. জলিল-নুরজাহান ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছেন।
ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল তার তিন ছেলে, তিন মেয়ে রেখে ২০১৯ সালে ২৪ জানুয়ারি লাকসামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।প্রতি বছরে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে দিনব্যাপী কোরআনখানি, মিলাদ ও স্মৃতিচারণের আয়োজন করা হয়।
ভাষাসৈনিক আব্দুল জলিলের স্মৃতি স্মরণে একটি স্কুল ও কলেজ নির্মাণের দাবি জানান, ভাষা সৈনিকের চাচাতো ভাই কাজী নুরল আমিন সিদ্দিকী তিনি বলেন, এই ভাষা যোদ্ধার নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে একদিকে তার নাম যেমন অম্লান থাকবে স্থানীয়দের কাছে। একইভাবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লেখাপড়া করে শিক্ষার আলো দেখবে দরিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের মানুষ।
একই সুরে কথা বলেন মনপাল গ্রামের বাসিন্দা লৎফুর রহমান খোকন,তিনিও ভাষা সৈনিক আবদুল জলিলের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *