নিজস্ব প্রতিবেদক:-ভারত থেকে ধেয়ে আসা বন্যার পানি ও ভারী বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া নোয়াখালীর বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বন্যাদুর্গতদের মাঝে খাবারের হাহাকার দেখা দিয়েছে। এছাড়া গত দুই দিনে সাপের কামড়ে অসুস্থ হওয়া ৩৫ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নোয়াখালীতে বৃষ্টি বন্ধ হলেও জেলার আটটি উপজেলায় পানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি।
বন্যায় আক্রান্ত মানুষগুলোর কেউ কেউ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউবা আশপাশের ফাকা দালানে আশ্রয় নিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া লোকজন কিছুটা সাহায্য পেলেও আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ তেমন সাহায্য পাচ্ছে না। তাদের খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
এদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অন্ধকার রাতে সাপের কামড়ে অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। গত দুই দিনে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এমন ৩৫ জনকে।
শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম। তিনি বলেন, শুক্রবার নয়জনকে এবং বৃহস্পতিবার ২৬ জনকে বন্যাকবলিত এলাকায় সাপ দংশন করেছে।
অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এসব সাপ গর্ত থেকে বের আসছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
এদিকে, বন্যাকবলিত মানুষদের বসতঘর ও রান্নাঘর ডুবে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে রান্না করছে। কিন্তু এক শ্রেণির মোনাফাখোর ব্যবসায়ী ১৩০০-১৪০০ টাকার গ্যাস ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা বিক্রি করছে।
অন্যদিকে গত পাঁচ দিন যাবত বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন বন্ধ এবং নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে দেশ-বিদেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে উৎকণ্ঠায় রয়েছে তারা।
অবশ্য শনিবার কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।

