ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চেন্নাইয়ে ভারি বৃষ্টি, উড়োজাহাজ, ট্রেন চলাচল বন্ধ

পোস্ট এর সময় : ১২:৩৮ অপরাহ্ণ , ভিজিটর : ৬

আন্তজাতিক ডেস্ক:-ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চেন্নাইয়ে ভারি বৃষ্টি, উড়োজাহাজ, ট্রেন চলাচল বন্ধ
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের তামিলনাড়ুতে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তলিয়ে গেছে শহরের রাস্তা। সোমবার সকালে। ছবি : এনডিটিভি

ঘূর্ণিঝড় মিচাংয়ের প্রভাবে ভারতের তামিলনাড়ুর রাজ্যের চেন্নাই ও পদুচেরিতে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি বঙ্গোপসাগরে রয়েছে এবং অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ রাজ্য থেকে ট্রেন যাত্রা ও উজোজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

চেন্নাই ছাড়াও রাজ্যের চেঙ্গলপাট্টু, কাঞ্চিপুরম, নাগাপট্টিনাম এবং কুড্ডালো ও তিরুভাল্লুর জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে চেন্নাইয়ের বেশিরভাগ নিচু এলাকা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি আগামীকাল দুপুরে নেলোর এবং মাছিলিপত্তমের মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, চেন্নাই শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে রাতভর ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আজ সোমবার সকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর মীনামবাক্কামে ১৯৬ মিলিমিটার এবং নুঙ্গামবাক্কামে ১৫৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বৃষ্টিপাতের কারণে চেন্নাই শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে স্কুল, কলেজ এবং সরকারি অফিসগুলো আজ বন্ধ থাকবে। রাজ্য সরকার কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য বেসরকারী সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রায় পাঁচ হাজার ত্রাণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন গতকাল রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন এক্স-এ পোস্ট করে বলেছেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মিচাংয়ের মোকাবিলায় রাষ্ট্র প্রস্তুত। মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। জনসাধারণকে অবশ্যই প্রদত্ত সুরক্ষা প্রোটোকল মেনে চলতে হবে। আমি আরো অনুরোধ করছি, ঝড়ের প্রভাব কম না হওয়া পর্যন্ত ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হবেন না।’

ঝড়ের কারণে চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ছয়টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
দক্ষিণ রেলওয়ে ঘোষণা করেছে, ট্রেন চলাচল বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত যাত্রীরা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে ১৪টি সাবওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাদ যায়নি শহরের বিমানবন্দরও। ১২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বেঙ্গালুরুতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ত্রাণ ও উদ্ধার প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ ভিলুপুরম, মায়িলাদুথুরাই, নাগাপট্টিনাম, তিরুভাল্লুর, কুদ্দালোর এবং চেঙ্গলপাট্টুর ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে আটটি এনডিআরএফ এবং নয়টি এসডিআরএফ প্রস্তুত রেখেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *